বাংলাদেশের ভৌগলিক বৈশিষ্ট্য ও প্রভাব

নবম-দশম শ্রেণি (মাধ্যমিক) - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা - প্রাচীন বাংলার জনপদ | NCTB BOOK
14.6k
Summary

বাংলাদেশের ভৌগোলিক বৈশিষ্ট্য ও প্রভাব:

বাংলাদেশ এশিয়া মহাদেশের দক্ষিণে অবস্থিত এবং এর রাজনৈতিক ইতিহাসে অনেক পালাবদল ঘটেছে। ১৯৪৭ সালে বাংলা দুই ভাগে বিভক্ত হয়, পশ্চিমাংশ ভারত এবং পূর্বাংশ পাকিস্তানের অন্তর্ভুক্ত হয়। মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে ১৯৭১ সালে পূর্ব পাকিস্তান স্বাধীন হয়ে বাংলাদেশের রূপে আত্মপ্রকাশ করে।

দেশটি উত্তরে হিমালয় পর্বতমালা, দক্ষিণে বঙ্গোপসাগর এবং দক্ষিণ-পূর্বে মিয়ানমার দ্বারা ঘেরা। এর মোট আয়তন ১,৪৭,৫৭০ বর্গকিলোমিটার, প্রধান নদীগুলো হল পদ্মা, যমুনা, ব্রহ্মপুত্র, মেঘনা, তিস্তা ও করতোয়া।

বাংলাদেশের ভৌগোলিক বৈশিষ্ট্য মানুষের জীবনযাত্রা ও সংস্কৃতির উপর গভীর প্রভাব ফেলে। দেশের সমভূমি ও নদীর উপস্থিতি যোগাযোগ ও পরিবহনে সহায়ক, এবং কৃষি ভিত্তিক সমাজ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

এখানের আবহাওয়া নাতিশীতোষ্ণ, যা মানুষের স্বভাবকে কোমল ও শান্ত করে তুলে। তবে ঋতুবৈচিত্র্যের কারণে ঝড় ও জলাবদ্ধতার সাথে সংগ্রামের জন্য স্থানীয় মানুষের মধ্যে নতুন শক্তি সৃষ্টি হয়েছে। বাংলার অধিবাসীদের খাদ্য, পোশাক, এবং ঘর-বাড়ি সবই ভৌগোলিক বৈশিষ্ট্যের দ্বারা প্রভাবিত।

এছাড়াও, নদীগুলি দেশকে বিদেশী শক্তির নজর থেকে রক্ষা করতে সহায়ক হয়। পূর্ব ও পশ্চিম পাকিস্তানের মধ্যে ভৌগোলিক দূরত্ব মুক্তিযুদ্ধে বাংলাদেশের অভ্যুদয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিল।

প্রাচীনকালে বাংলা একটি একক রাজ্য ছিল না, বরং ছোট ছোট অঞ্চলে বিভক্ত ছিল। সেগুলো collectively 'জনপদ' নামকরণ করা হয়েছিল।

বাংলাদেশের ভৌগোলিক বৈশিষ্ট্য ও প্রভাব :
এশিয়া মহাদেশের দক্ষিণে বাংলাদেশের অবস্থান। প্রাচীনকাল থেকে অনেকবার বাংলাদেশের রাজনৈতিক পালাবদল ঘটেছে। ফলে এর সীমারেখারও অনেক পরিবর্তন হয়েছে। ইংরেজরা ভারতবর্ষ থেকে চলে যাবার পর ১৯৪৭ সালে বাংলা দুই ভাগে বিভক্ত হয়। এর পশ্চিমাংশ ভারত আর পূর্বাংশ পাকিস্তানের অন্তর্ভুক্ত হয়। পাকিস্তানের অন্তর্গত বাংলাদেশের নাম হয় প্রথমে পূর্ববাংলা ও পরে পূর্ব পাকিস্তান। ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে পূর্ব পাকিস্তান একটি স্বাধীন-সার্বভৌম রাষ্ট্রে পরিণত হয়। এ রাষ্ট্রের নতুন নাম হয় বাংলাদেশ।

বাংলাদেশের উত্তরে রয়েছে বিশাল হিমালয় পর্বতমালা, দক্ষিণে বঙ্গোপসাগরের বিশাল নীল জলরাশি। দক্ষিণ-পূর্বে মিয়ানমার ছাড়া সমগ্র দেশটির বাকি সীমারেখা ঘিরে রেখেছে ভারত। বাংলাদেশের মোট আয়তন ১,৪৭,৫৭০ বর্গকিলোমিটার। এর অধিকাংশ অঞ্চলই সমভুমি। অসংখ্য নদ-নদী আর খাল-বিল ছড়িয়ে আছে এদেশের বুকজুড়ে। মূল নদ-নদীগুলো হচ্ছে পদ্মা, যমুনা, ব্রহ্মপুত্র, মেঘনা, তিস্তা ও করতোয়া।
কোন দেশের মানুষের জীবনাচরণ ও ইতিহাসের ওপর সে দেশের ভৌগোলিক বৈশিষ্ট্যের প্রভাব অপরিসীম । এ জন্যই পৃথিবীর বিভিন্ন অঞ্চলের মানুষের জীবনধারা, আচার-আচরণে এত বৈচিত্র্য লক্ষ্য করা যায়। বাংলাদেশের বিশাল সমভূমি আর প্রচুর নদ-নদী থাকায় এদেশের যোগাযোগ ও মালামাল পরিবহনের একটি বড় মাধ্যম নদীপথ। বিদেশি আক্রমণ থেকে দেশকে রক্ষা করার জন্য নৌযুদ্ধে পারদর্শী হয়ে ওঠে বাংলার সৈন্যরা। পাশাপাশি উর্বর ভূমির কারণে কৃষিভিত্তিক সমাজও গড়ে ওঠে।

এখানকার আবহাওয়া নাতিশীতোষ্ণ। ভৌগোলিক পরিবেশ দেশবাসীকে কোমল আর শান্ত স্বভাবের করেছে। আবার ঋতুবৈচিত্র্যের কারণে ঝড়-জলোচ্ছ্বাসের সাথে যুদ্ধ করতে হয় বাংলাদেশের মানুষকে, তাই তারা হয়ে ওঠে সংগ্রামী। ফলে মানুষের অধিকার রক্ষার জন্য যুগ যুগ ধরে সংগ্রাম করেছে। শুধু স্বভাব চরিত্র নয়, বাংলার অধিবাসীদের খাদ্য তালিকা, পোশাক, ঘর-বাড়ি সবকিছুই এদের ভৌগোলিক বৈশিষ্ট্যের দ্বারা প্রভাবিত হয়েছে। বৈচিত্র্যময় এই প্রাকৃতিক অবস্থান প্রতিরক্ষার ক্ষেত্রেও বাংলার মানুষকে কিছুটা বাড়তি সুবিধা দিয়েছে। নদ-নদী এদেশকে বহুকাল আড়াল করে রেখেছিল বিদেশি শক্তির লোভাতুর দৃষ্টি থেকে। অধিকন্ত পূর্ব পাকিস্তান ও পশ্চিম পাকিস্তানের মধ্যে ১১০০ মাইলের ভৌগোলিক দূরত্ব ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে বাংলাদেশের অভ্যুদয়ে বিরাট ভূমিকা পালন করে।

প্রাচীন যুগে বাংলা (বর্তমানের বাংলাদেশ ও পশ্চিমবঙ্গ) এখনকার বাংলাদেশের মতো কোনো একক ও অখন্ড রাষ্ট্র বা রাজ্য ছিল না। বাংলার বিভিন্ন অংশ তখন ছোট ছোট অঞ্চলে বিভক্ত ছিল। আর প্রতিটি অঞ্চলের শাসক যার যার মতো শাসন করতেন। বাংলার এ অঞ্চলগুলোকে তখন সমষ্টিগতভাবে নাম দেয়া হয় 'জনপদ'।

Content added By

Read more

Promotion
NEW SATT AI এখন আপনাকে সাহায্য করতে পারে।

Are you sure to start over?

Loading...